দুই বোনের এক দাদা~১
আমি টিয়া, দেখতে শুনতে ভালো মেয়েটা তার দাদা,দিদি বাবা মা নিয়ে খুব শান্তিতে জীবন কাটছিলো কিন্তু , দুমাস আগে তাদের জীবনে নেমে আসে এক দুঃখের পাহাড়। আমার দাদা জয় আর আমার দিদি পিয়া , কে রেখে বাবা মা গেছিলেন পুরী ভ্রমণ করতে। কিন্তু তারা আর ফেরেনি। খবর আসে এক দুর্ঘটনায় বাসের সব যাত্রী মারা যান। আমাদের উপর নেমে পরে এক বিরাট দুঃখের ঝড়। আর দাদার উপর আসে আমাদের দায়িত্ব। তবে বেশি অসুবিধা হয়নি দাদার। কারণ দাদার আগেই একটা দোকান ছিল টিভি ফ্রিজ কেনা বেচার। আমার দিদি এখন B.A কমপ্লিট। তাই আমরা বাড়ির মধ্যে দুজন খুব ভালো বান্ধবী। কানাঘুষো শুনেছিলাম দিদি নাকি আমাদের পাড়ায় কোন একটা ছেলের সাথে প্রেম করে। তবে আমি ছোট তাই কোনোদিন ওই ছেলেকে দেখার সাহস হয়ে পারিনি। তবে একদিনের একটা ঘটনা আমাদের জীবন টা পুরো বদলে দিলো। সেদিন যখন আমার ঘরের দরজায় টোকা পড়লো তখন আমি আর দিদি ঘুমিয়ে পড়েছি। দরজার পিছনে দাদা ডাকতে লাগলো টিয়া দরজা খোল, পিয়া দরজা খোল। আমি গিয়ে কিছু না ভেবে দরজা খুলে দিলাম। আর এত রাতে দাদার এঘরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। কারণ ভাত খেয়ে আমরা অনেক সময় আগেই আমি আর দিদি ঘরে চলে এসেছি । দাদার মাথার কোনে বিন্দু বিন্দু ঘাম , দাদা ঘরের বাইরে থেকেই জিজ্ঞাসা করলো পিয়া কোথায়? আমি নিঃসন্দেহে হাত টা বাড়িয়ে দেখলাম খাটে। কি জানি দাদা তখন গর্জে উঠলো ,,,,কোথায় পিয়া?? আমি ভয় পেয়ে গেলাম । আমি এবার আমরা খাটের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আর জানলা দিয়ে ভেসে আসা আবছা কিন্তু মলিন সাদা জোস্নায় খাটের উপর থাকা ফাঁকা জায়গাটা দেখে বুকের ভিতর টা ধড়াস করে উঠলো। পিয়া খাটে নেই। দাদা আমাকে নিয়ে ছাদের দিকে গেল। ছাদে গিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার চক্ষু চড়ক গাছ। দেখি পিয়া একটা ছেলের কোলে বসে আছে যার ওই ছেলেটার একটা হাত দিদির নাইটির মধ্যে হাত ঢুকিয়ে কিসব করছে । দাদাকে দেখে পিয়ার মুখ শুকিয়ে কাঠ ,থর থর কড়ে কাঁপতে লাগলো। দাদা সোজা গিয়ে ছেলেটাকে বললো আর যেন এদিকে পাঁ না বাড়ায়। ছেলেটা কোনো কথা না বলে নেমে চলে গেল। পিয়া তো তখন কেঁদে ফেলেছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না , দাদা শুধু একটা কথাই বললো এটা তুই ঠিক করলি না, এত দূর তোর যাওয়া উচিৎ হয়নি। পিয়া কি একটা যেন বলতে যাচ্ছিল কিন্তু দাদা তা না শুনে হেঁটে নিচে নেমে গেল। পিয়া আমার দিদি হয় তবে প্রায় একই বয়সের হওয়ায় আমি ওকে দিদি বলিনা নাম ধরেই ডাকি। আমি ওকে ধরে ঘরে নিয়ে গেলাম । আমি বুঝলাম পিয়া খুব ভয় পেয়েছে আর সাথে সাথে দাদার উপর তার এত দিনের ভালোবাসা ও চলে গেছে। ও অঝোরে কেঁদে চলেছে আর বলছে আমি কিছু করিনি । আমার সাথে ওর কোনো গভীর সম্পর্ক হয়নি। ওর এই কান্না শুনতে শুনতে কখন যে আবার ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা। রাত তখন প্রায় শেষ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, পাশ ফিরে দেখি পিয়া নেই।