রহস্যময় দ্বীপ বারমুডা – পর্ব ২ (Rohosyomoy Dwip Bermuda - 2)
জন চলে যাওয়ার পর আমি চাবি নিয়ে বাড়িটার দিকে এগোলাম । ছোট একতলা কাঠের বাড়ি , বেশ পুরোনো বাড়িটা । দরজায় চাবি লাগিয়ে ঘোরাতেই দরজাটা খুলে গেলো , আমি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলাম । ঘরের ভিতর দুটো রুম,বেশ ছোট ঘর । আমি হাত মুখ ধুয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিলাম । একটু বাদে আমার খুব খিদে পেলো,তাই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম । বাড়িটা থেকে বেরিয়ে কাঁচা রাস্তা ধরে হাটতে লাগলাম । কিছুক্ষন বাদেই জনের বলে দেয়া সেই রেস্তোরাঁ টার সামনে পৌঁছে গেলাম । দরজা ঠেলে আমি ভিতরে ঢুকলাম , সামনেই কাউন্টারে দেখি একটা রোগ মতন লোক দাঁড়িয়ে আছে । লোকটার কাছে গিয়ে বললাম -আমার নাম শুভ। -আচ্ছা তুমিই সেই যে জাহাজ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছো । আমাকে জন সব কথা বলেছে । আমার নাম রজার , এই রেস্তোতা টার মালিক আমি। -আমার খুব খিদে পেয়েছে তাই এলাম এখানে। -হ্যা তুমি বস টেবিল এ , আমি তোমার জন্য কিছু খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমি সামনের দিকে একটা ফাঁকা টেবিল এ গিয়ে বসে পড়লাম । রেস্তোরা টা বেশি বড় নয় , আমি ছাড়া মাত্র কয়েকজন লোক এসেছে রেস্তোরা টাতে । রজার ছাড়া আরো ২ জন লেবার রয়েছে রেস্তোরাতে । কিছুক্ষন পর একটা লেবার খাবারের প্লেট নিয়ে আমার টেবিলে সার্ভ করতে এলো , আর আমাকে খাবার গুলো দিয়ে চলে গেলো । আমি খাবার গুলো খেতে শুরু করে দিলাম । কিছুক্ষনের মধ্যে খাবার খাওয়া শেষ হয়ে গেলো । আমি টেবিল ছেড়ে উঠতে যাবো এমন সময় একটা সুন্দরী মেয়ে আমার কাছে এসে টেবিল এ বসলো । মেয়েটি বলল -আমার নাম সেরেনা , আমার বাবা রজার,এই রেস্তোরা টা আমাদের । -হ্যালো সেরেনা , তোমার সাথে দেখা হয়ে আমার ভালো লাগলো। -তুমি পেটভরে খেয়েছো তো ? -হ্যা আমার পেট ভরে গেছে । তোমাদের এখানকার খাবার সত্যি খুব ভালো । -তুমি আগে কি কাজ করতে ? -আমি জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলাম । -তাহলে তো তোমার খুব মজা হতো , বিভিন্ন দেশ ঘুরতে তুমি । -হ্যা সে তো মজা হতোই , তোমাদের এই শহরটাও ঘুরে দেখতে চাই । -আমাদের এই শহরে তেমন কিছু নেই বললেই চলে । জঙ্গল , গাছপালা এইসবই আছে । এমন সময় একটা মহিলা এলো এবং আমাদের টেবিল এ বসলো । সেরেনা বললো -ইনি হচ্ছে আমার মা , সামার । সামার বলল -তোমারই নাম শুভ -হ্যা আমি শুভ -তুমি এখন কোথায় থাকছো । -ওই যে পুরোনো একতালা বাড়িটায় । -তোমার যদি কোনো অসুবিধে হয় তাহলে আমাদের জানিও । -যদি একটা ফোন পেতাম তাহলে ভালো হতো,আমি আমার কোম্পানিতে খবর দিতে পারতাম । -আমাদের এখানে কোনো নেটওয়ার্ক নেই । কেউ ফোন ব্যবহার করে না । আমি আসছি তাহলে তুমি বরং সেরেনা এর সাথে এই ছোট শহরটা ঘুরে এস । এই বলে উনি চলে গেলেন । আমি ও সেরেনা দুজনে বাইরে বেরিয়ে পড়লাম । সেরেনা বলল -এখানে কিছু দূরে জঙ্গলের ভিতরে একটা ছোট পাহাড় আছে সেখানে যাবে তুমি । -হ্যা চলো তাহলে ঘুরে আসি , কিছু সময় কাটানো যাবে ।