রহস্যময় দ্বীপ বারমুডা – পর্ব ১ (Rohosyomoy Dwip Bermuda - 1)
আমার নাম শুভ। আমি একজন তরুণ বাঙালি নাবিক। আমি একটা বড় জাহাজ কোম্পানি তে চাকরি করি।চাকরির শুরুতে আমি আমাদের দেশেতেই একটা জাহাজ এর ক্যাপ্টেন ছিলাম। আমার কাজ ছিল জাহাজে করে বিভিন্ন রকম মাল পরিবহন করা। আসলে আমার জাহাজটা ছিল কার্গো শিপ। তো কিছুদিন আগে আমি কোম্পানি থেকে একটা প্রমোশন পাই। আমাকে ব্রাজিল এ একটা জাহাজ এর ক্যাপ্টেন এর পদ এ নিযুক্ত করা হয়। মাইনেটা বেশি এবং বিদেশ এ গিয়ে থাকতে পারবো তাই আমি ব্রাজিল এ চলে গেলাম। খুব সুন্দর জায়গা ব্রাজিল। প্রথম কয়েকমাস ভালোই কাটলো আমার। যে জাহাজ এর ক্যাপ্টেন আমি সেই জাহাজটার নাম লিট্ল পার্ল। একদিন আমি আমার জাহাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সমুদ্রে ,আমাকে কিছু মাল নিয়ে আফ্রিকা পৌঁছে দিতে হবে এটাই আমার কাজ। প্রথম দিন তেমন কিছু হলো না, সমুদ্র খুবই শান্ত। আমি খুব সহজেই আমার জাহাজ নিয়ে সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছি। আমার জাহাজ এ আমি ছাড়া আরো ২২ জন নাবিক আছে। সকলেই ভীষণ ব্যাস্ত নিজেদের কাজে। হটাৎ রাতের বেলায় প্রচন্ড ঝড় উঠলো। মনে হলো যেন জাহাজ ডুবে যাবে। জাহাজ এর সবাই খুব ভয় পেয়ে গেলো।সবাই এদিক ওদিক ছোট ছুটি করতে লাগলো আতঙ্কে।আমি প্রানপন চেষ্টা করতে লাগলাম আমার জাহাজটা কে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু জাহাজ কাত হয়ে ডুবে যেতে লাগলো। তারপর জাহাজ ডুবে গেলো ,আমি জলে পরে গেলাম। জলে পরে একটা কাঠের টুকরো পেলাম এবং সেটাকে ধরে জলে ভাসতে লাগলাম। আমার সঙ্গীদের কি হলো তা জানতে পারলাম না। কাঠের টুকরো করে ভাসতে ভাসতে দেখলাম আমার জাহাজটা ডুবে যাচ্ছে।তারপর আর কিছু মনে নেই আমার। পরের দিন সকাল এ জ্ঞান ফিরলো। দেখলাম আমি এখন একটা দ্বীপ এ বালির মধ্যে শুয়ে আছি। বুঝতে পারলাম আমি সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে কোনো এক নির্জন দ্বীপে চলে এসেছি। বুঝলাম দ্বীপ টা খুব বড়ো আকৃতির দ্বীপ কারণ আমি দ্বীপ এর এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত দেখতে পাচ্ছিলাম না। দিগন্ত বৃস্তিত শুধু গাছপালা আর বনজঙ্গল। আমি দ্বীপ এর সমুদ্রের ধারে আছি। কিছুক্ষন সমুদ্রের সৈকত এ ঘুরে বেড়ালাম,তারপর জঙ্গল এ প্রবেশ করলাম কিছুক্ষন খোযা খুজির পর একটা ফলের গাছ দেখতে পেলাম। সেই ফলের গাছ থেকে কিছু ফল পারলাম এবং তারপর সেই ফলগুলো খেয়ে নিলাম। জঙ্গল এর আরো কিছুটা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম যে এখানে একটা ছোট নদী আছে যেটা সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে। বুঝতে পারলাম যে আমি কোনো দ্বীপ এ নয় কোনো অচেনা অজানা মহাদ্বীপ এ এসে পড়েছি। এখানে আমি সব কিছুই পাচ্ছি খাবার ,জল আর হয়তো মানুষ ও দেখতে পাবো। কিছুক্ষন পরেই সন্ধ্যা হয়ে এলো। আমি একটা বিশাল গাছ এর নিচে কিছু নারকেল গাছে এর পাতা দিয়ে একটা বিছানা বানিয়ে নিলাম,আর তার মধ্যেই শুয়ে পড়লাম।